আমাদের রংপুরদর্শনীয় স্থান

পানাপুকুর ফকির পাড়া গ্রামের গল্প

গ্রামটি রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলায় বড়বিল ইউনিয়নে অবস্থিত।

গ্রামের নাম দক্ষিণ পানাপুকুর ফকির পাড়া।
এটা একটা আজব নাম তাই না……….??
গ্রামটি গড়ে ওঠে ঘাঘট নদীরতীরে 
এবং যায়গাটা নিচু হওয়ার কারনে বন্যার সময় ভেসে আসা কচুরিপানায় ভরে যেত তাই হয়ত পানাপুকুর নাম দিয়েছিলো কেউ। তখন নদীটি ছিলো ক্ষরস্রোতা এখানে হিন্দু সম্প্রদায় বহু যুগ আগে বসবাস শুরু করে। তাদের প্রধান পেশা ছিলো মাটির তৈজসপত্র তৈরি করা।


কালের পরিবর্তন আর সত্যের আগমনে গ্রামটি মুসলিম সম্প্রদায়ে পরিনত হলেও
যারা হিন্দু থেকে মুসলমান হয়নি তারার একসাথে বাস করত।
কিন্তুু দেশ ভাগের সময় তারা ভারতে পাড়ি জমায়। যারা যানি তারা আমাদের পাশের গ্রামে বসবাস করছে।

আমাদের গ্রামের নাম করন————-

যখন হিন্দু জাতি বসবাস করত তখন গ্রামের নাম ছিল লক্ষি পাড়া। কিন্তু এখন নাম ফকির পাড়া এর কারন এক আল্লার ফকির এই গ্রামে এসে বসবাস করতো তার সম্মানুসারে নামকরন হয় ফকির পাড়া।
তেনার আলৌকিক কিছু ঘটনা মানুষকে বিস্ময় করে দেয়। এবং তেনাকে আল্লার ওলি মনে করেন গ্রামের মানুষ। এখনও তার কবর এই গ্যামের মধ্য খানে অবস্থিত।

গ্রামের পুরেনো সামাজীক অবস্থা…………

শান্ত শিষ্ট প্রাকৃতিক পরিবেশ আর গাছের ছায়ায় মোড়ানো গ্রামটির
মানুষ ছিলো অশিক্ষিত কুসংস্কার আচ্ছন্ন তারা শিক্ষার দিকে ছিলো উদাসীন
বেশিভাগ মানুষ পেশায় কৃষি কাজ করতো।
সুধু ধান তামাক আবাদ করত।
তাদের খাবার ছিলো মাছ, মাংশ, মাঠে প্রাকৃতিক উপন্ন শাকপাতা ইত্যাদি।
রাস্তা ঘাটের অবস্থা ছিলো জরাজীর্ণ
নদীর ধারদিয়ে ঢালু রাস্তা ছিলো যার ফলে বৃষ্টি হলে সব পানি রাস্তা দিয়ে নিচে নেমে যেত এবং সাইকেল ভ্যান চলাচলের কারনে কিছু সময়ের মধ্যেই কাদায় পরিনত হতো রাস্তার মাটি।
অবস্থা এতই করুন ছিল যে কেউ অতি প্রয়জন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হতো না রাস্তায়।
নদী পারাপারের জন্য ছিলোনা কোন ব্রিজ।
নৌকায় করে নদি পার হতে হতো।
পানি কমলে বাঁশের সাকো দিয়ে নদি পারাপার করত গ্রামের মানুষ।
ঘাঘট নদী দিয়ে
বর্ষায় পানি প্রবল বেগে ধেয়ে এসে নিচুজমির ধানক্ষেত ডুবিয়ে দিত।
হা হা কার আর দূর্দশাই ছিলো গ্রামটির অবস্থা।

বর্তমান অবস্থা………

এখন গ্রামটি আগের মতো নেই এখন প্রতিটি ঘরের ছেলেমেয়েরা প্রাইমারি বিদ্যালয়ে যায় এখন গ্রামে একটি প্রাইমারি বিদ্যালয় আছে যার ফলে ছেলে মেয়েরা বিদ্যালয়ে শিক্ষা অর্জন করতে পারে।
এখনও গ্রামের মানুষ গুলো কৃষি কাজ করলেও তাদের ছেলে মেয়ারা আজ গ্রামের উজ্জল নক্ষত্রের মতো।
তারা ডাক্তা, ইন্জিনিয়ার, শিক্ষক, আর্মি, জেলার, ইত্যাদি পেশায় নিয়ো জিতো। এবং এই গ্রামের অনেকেই দেশের বাইরে থাকে তারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সাহাজ্য করে।
কেউ কেউ বাংলাদেশর বিভীন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়া লেখা করছে।
গ্রামের ছেলে মেয়েরা বেশির ভাগ ডিপ্লোমায় পড়তে আগ্রহী কারন তারা জানে বর্তমানে এটাই বিশ্বে মূল্যবান।
রাস্তা ঘাট এখন পিসঢালা, সবার বাড়ি টিনের ছাউনি, কেউ আধপাকা, কেউ ছাদ ঢালাই বিল্ডিং তৈরি করেছে সবার অবস্থা এখন সচ্ছল।
এখনও অনেকেই আছে গরিব ঘরের সন্তান তারা পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করে নিজের খরচ চালায়।
এই গ্রামের ছেলেরা আজ সারা বাংলাদেশ কর্মরত, গামেন্টস, প্রান, রাজমিস্ত্রি ইত্যাদি পেশায় আছে।
এখন ধান, তামাক, আখ,ভূট্টা,গম,আলু, শাকসবজি, হাঁস-মুরগী গরু ছাগল পুকুরেমাছ চাষ করে অনেকেই সাবলম্বী ।
এখন সবাই কুসংস্কার মুক্ত বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে তারা সোচ্চার।
গ্রামটি ভবিস্যতে আরো আর্দশ হয়ে উঠবে আশা করি।

উক্ত গল্পটি লিখেছেনঃ মোহাম্মাদ হারুন অর রশিদ

Related Articles

Leave a Reply

Close