•  Mobile: +8801783043161  E-mail: contact@ourrangpur.com
  • অন্যান্যআমাদের রংপুরতারাগঞ্জমিঠাপুকুর

    রংপুরের পরিত্যক্ত জমিতে চা চাষাবাদ হচ্ছে

    রংপুরের তারাগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় পরিত্যক্ত জমিতে চা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

    আর ওই অঞ্চলে চা চাষের পথ দেখিয়েছেন তারাগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত সিনহা এগ্রো বেইজড ইন্ডাস্ট্রিজ নামের ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। দেশে চা পাতার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের উদ্যোগ নেয় সিনহা এগ্রো বেইজড।

    ২০১৫ সালের জুনে তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের বরাতী ব্রিজের পাশে প্রায় দেড় একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চা চাষের উদ্দেশ্যে চারাগাছ লাগানো হয়।

    চারাগাছগুলো চা পাতা সংগ্রহের উপযোগী হওয়া পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় এক বছর। এক বছরে দেড় একর জমিতে ব্যয় হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। এক বছর পর এ বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয় প্রায় ৩২২৪ কেজি চা পাতা। যার মূল্য আসে প্রায় ১০ লাখ ৩ হাজার ১৬৮ টাকা। এরপর পর্যায়ক্রমে জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়।
    বর্তমানে তারাগঞ্জ উপজেলায় একটি ও এর পাশর্^বর্তী নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একটি নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের দুটি চা বাগান প্রায় ৯ একর জমিতে। যা কৃষি কাজের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী ছিল। এই দুই বাগান থেকে প্রতি বছর ৮ থেকে ৯ রাউন্ড দিয়ে চা পাতা সংগ্রহ করা হয়। এতে প্রতি রাউন্ডে চা পাতা সংগ্রহ হয় প্রায় ১৯ হাজার ৩৭০ কেজি। প্রতি কেজি চা পাতা বিক্রি হয় ৩২-৩৫ টাকা পর্যন্ত। আর এ চা পাতা ক্রয় করে পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল সেন্ট্রাল টি ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

    কথা হয় সিন্হা এগ্রো বেইজড্ ইন্ডাস্ট্রিজ এর চা বাগানের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রিফাত হোসেনের সাথে। তিনি জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চা উৎপাদন শুরু করে। আর এর দায়িত্ব দেয় আমার উপর। তারাগঞ্জ উপজেলায় চা বোর্ডের কোন অফিস নেই। ফলে আমি কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত চা বোর্ডের অফিসে যোগাযোগ করি। তারা আমাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা করেন।

    এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ চা বোর্ডের কর্মকর্তা জামেদ ইসলাম সিদ্দিকির কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চা চাষ একটি অত্যন্ত সহজ ও লাভ জনক কাজ। যেসব জমিতে অন্য কোনো ফসল হয় না সেসব জমিতে সহজেই চা চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। তারাগঞ্জের বালাপাড়া ও কিশোরগঞ্জের বাহাগিলীতে চায়ের চাষ দেখে এখন অনেক যুবক চা চাষে ঝুকছে। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছি।
    বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হক খোকন বলেন, রংপুর বিভাগের রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে চা চাষ সম্প্রসারণ হচ্ছে।

    এ সব এলাকার আবাদী জমির পরিমাণ ৬ হাজার একর। তিনি বলেন ,ক্ষুদ্র চা বাগান আটটি আর মাঝারি ১২টি, এতে ৩০০০ চাষি চা চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। কারখানা রয়েছে ১৩টি।

    প্রস্তুতকৃত চায়ের পরিমাণ ৮০ লাখ কেজি। তিনি আরও বলেন, কাঁচা চা পাতার মূল্য নির্ধারিত হয় বাজারের ওপর। ফলে চা বাগান মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তিনি সরকারকে সরাসরি চা বাগান মালিকদের নিকট থেকে ক্রয় করার আহ্বান জানান।
    রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সারোয়ারুল হক জানান, রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় ও লালমনিহাট জেলায় ব্যাপকভাবে চা চাষ হচ্ছে। পরিত্যক্ত জমিতে চা চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন চাষিরা।

    Leave a Reply

    Close