•  Mobile: +8801783043161  E-mail: contact@ourrangpur.com
  • আমাদের রংপুরকাউনিয়াগঙ্গাচড়ানদ-নদী

    রংপুরে মৎস্য সপ্তাহ পালন। মৎস্য ক্ষাতে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা

    রংপুর জেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন গংগাচড়া উপজেলার মৎস্য চাষীরা।

    উপজেলার মোহনা গ্রামের মৎস্য চাষী সামিউল ইসলাম জানান, ৫০ শতকের পুকুরের মাছ রবিবার রাতে ভেসে গেছে। ভেসে যাওয়া মাছের মধ্যে পাবদা,রুই, কাতলা ও গুলসা জাতীয় মাছ এবং পোনা ।

    এখন সাড়ে ৩ একর পুুকুরে পানি প্রবেশ করা শুরু করেছে। তাই মাছ যাতে ভেসে যেতে না পারে এজন্য পুকুরের চারিদিকে নেট দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন । তিনি জানান, পানি বৃদ্ধি পেলে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারেন। তিনি অভিযোগ করেন ২ বছর আগে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মৎস্য অফিস থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান লিখে নিয়ে গেলেও কোন রকম সহয়োগিতা পাননি।

    এর পরেই ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলা হচ্ছে কাউনিয়া। ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষিরা জানান, পুকুরের চারিদিকে নেট এবং বাঁশের বানা দিয়েও মাছ রক্ষা করতে পারেননি। পানির তোড়ে পুকুরের চাষকৃত মাছ ভেসে গেছে।

    রংপুর জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ভেসে যাওয়া মোট পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৫ শত ৮২টি। ভেসে যাওয়া মাছের আনুমানিক পরিমাণ হচ্ছে ৮৭ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন। যার মূল্য হচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২৩ লাখ ১১ হাজার টাকার সমপরিমাণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে।
    গংগাচড়া উপজেলায় বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৪ শত ৯৫টি। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ হচ্ছে ৭৫ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ভেসে গেছে ৪ লাখেরও বেশি পোনা। অবকাঠামেরা ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার।
    কাউনিয়া উপজেলায় বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৫০টি। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ হচ্ছে ৪ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ভেসে গেছে ৫৮ হাজারেরও বেশি পোনা। অবকাঠামেরা ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার।

    পীরগাছা উপজেলায় বন্যায় ভেসে যাওয়া পুকুরের সংখ্যা হচ্ছে ৩৭টি। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ হচ্ছে ৬ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। অবকাঠামেরা ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার টাকা।
    জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক কাজী আতিয়াহ্ তাইয়েবী জানান, চলমান বন্যায় রবিবার পর্যন্ত জেলায় ক্ষতিগ্রস্থ মৎস চাষিদের তালিকা করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    ঝুঁকিতে থাকা মৎস্য চাষিদের চাষকৃত মাছ যাতে ভেসে যেতে না পারে এ জন্য পুকুরের চারিদিকে জাল দিয়ে ঘিরে দেয়ার জন্য মৎস্য বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

    এদিকে বৃস্পতিবার সকালে রংপুর জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথ্য আয়োজনে জেলা প্রশাসন চত্ত¡র থেকে বর্নাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। পুলিশ লাইন্স পুকুরে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়। র‌্যালি মৎস্য পোনা অবমুক্ত করন শেষে টাউন হলে আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় রংপর বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জাকির হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক সৌয়দ ফরহাদ হোসেন এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ এলাহী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রংপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ, বিভাগীয় মৎস্য পরিচালক আতাউর রহমান খান, উপ-পরিচালক মৎস্য লতিফুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর বকশি প্রমুখ। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ এপ্লাইড সাইন্স এন্ড টেকনোলজি রংপুর এর উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের রংপুর নগরীতে র‌্যালি বের করে। র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ তানজিবা মাহাজেবিন, কৃষিবিদ আরিফুল ইসলাম, কৃষিবিদ শামীমা সুলতানা ফেরদৌসি, ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিব, ইঞ্জিনিয়ার ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট আররাফি রহমান, ইঞ্জিনিয়ার ও খাদ্য বিশেষজ্ঞ মোঃ সারওয়ার হোসেন প্রমুখ।

    Leave a Reply

    Close